লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
গরিব ও দুঃস্থ পরিবারের জন্য সরকারের তৈরি লালমনিরহাটে বিভিন্ন আবাসন (আশ্রয়ণ/বসতি) এখন অনেকটাই জনশূন্য। আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলোতে এখন আর কেউ থাকতে চায় না। পরিকল্পিত স্থান নির্ধারণ ও কর্মসংস্থানের অভাব, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুঃস্থরা তালিকাভুক্ত না হওয়া, রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলার কারণে এ অবস্থা।
জেলায় আশ্রয়হীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে বিভিন্ন সময় সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে আবাসন বা বাসস্থান তৈরি করে দেয়। কিন্তু সেই আবাসন প্রকল্পগুলো দুঃস্থদের তেমন উপকারে আসছে না।
গত বুধবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি ৫ নং ওয়ার্ডের আবাসন প্রকল্পে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ৬টি ব্যারাকে ৬০ টি পরিবার বসবাসের কথা থাকলেও ওই আবাসন প্রকল্পে আছে মাত্র ১৬ টি পরিবার। বাকি ৪৪ টি পরিবার ঘর তালাবদ্ধ করে চলে গেছেন। ব্যারাকের ভিতরে অধিকাংশ ঘর থাকার অনুপোযোগী হয়ে গেছে। প্রায় ঘরের উপরের টিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে আছে। যেখানে কোন লোক বসবাস করা সম্ভব না এবং খাবার পানি ও স্যানিটেশন এর অভাবে বিভিন্ন সমস্যা ও রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। লোকজনের চলাফেরা করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। নেই কোন বিদ্যুতের ব্যবস্থা। আবাসনে রয়েছে বিস্তর সমস্যাও।
আবাসনের বেশিরভাগ ঘরের টিন নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। পানি নেমে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আছে পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা। বসবাসের পরিবেশ না থাকায় এবং প্রকৃত দুঃস্থ পরিবারের নামে ঘর বরাদ্দ না হওয়ায় বাকি পরিবারগুলো চলে গেছে এমন অভিযোগ ওই এলাকার লোকজনের। ফলে অধিকাংশ ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। একই অবস্থা জেলার অধিকাংশ আবাসন প্রকল্পের।
ওই আবাসন প্রকল্পের সুবিধাভোগী আবদার রহমান ও আইয়ব আলী জানান, ২০০৬ সালে সেনা বাহিনীর তত্বাবধানে এ আবাসন প্রকল্পটি তৈরি হয়। প্রথমে আমরা ৬০ টি পরিবার বসবাস শুরু করলেও পরে অধিকাংশ পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। গত ১৩ বছরে আমাদের কোনো খোঁজ খবর নেয়া হয়নি। ঘরের টিনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের চালে পলিথিন দিয়ে কোনো রকম কষ্টে দিন পার করছি। পায়খানা ও নলকূপগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরগুলো মেরামতের জন্য একাধিক বার ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও আমাদের ঘরগুলো মেরামত করে দেয়া হয়নি।
ওই আবাসনের অপর সুবিধাভোগী তসলিম উদ্দিন জানান, সরকার আমাদের থাকার জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ঘরে এখন থাকার পরিবেশ নেই। আমরা সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। উল্টো বিভিন্ন সময় আমাদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান আতি বলেন, আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো মোরামতের জন্য একাধিক বার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আবেদন করেছি। জেলা প্রশাসক সরেজমিনে এসে সুবিধাভোগীদের কষ্ট দেখে গেছেন। কিন্তু আজো আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো মোরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে ওই আবাসন প্রকল্পের লোকজন।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন বলেন, আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো এককালীন রেজিস্টার করে সুবিধাভোগীদের দেয়া হয়েছে। তারা সেগুলো পরবর্তীতে মেরামত করবেন। তারপরও আবাসন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে জেলা প্রসাশকের মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকার যদি আবাসন প্রকল্পগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বরাদ্দ আসে তাহলে অবশ্যই আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো মেরামত করা হবে।