রিপোর্টার: আবু সাঈদ ইসিয়াম
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ নয়াগ্রামে জোবাইদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে শালিসির মাধ্যমে বিচার হিসেবে শুধু ছেলেটির মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয় বলেও জানা যায়। তবে এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবারের পক্ষ কোনো মামলা করা হয়নি।

জানা যায়, বাড়ি থেকে ঐ ছাত্রী তার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আইসক্রীম কিনতে যায়। আইসক্রীম কিনতে গেলে আইসক্রীম বিক্রেতা একই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া গ্রামের মইজল মিয়ার মিয়া ছেলে রতন মিয়া (১৬) মেয়েটিকে রাস্তার পাশে একটি ফাঁকা ঘরে বেশি আইসক্রীম দেয়ার লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায়। ঘরের ভেতরে তাকে ধর্ষণ করার সময় মেয়েটি চিৎকার করলে ঐ রাস্তা দিয়ে নামাজ পড়তে যাওয়া দুইজন মুসল্লি মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এসময় ছেলেটিকে স্থানীয়রা গণধোলাই দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পঞ্চায়েতের সভাপতি নুর ইসলামের কাছে বিচার দেন মেয়েটির বাবা। শনিবার দিবাগত রাতে নুর ইসলামের সভাপতিত্বে স্থানীয় কয়েকজন ওয়ার্ড মেম্বার শালিসির মাধ্যমে বিচার হিসেবে ছেলেটির মাথা ন্যাড়া করে দেয়। তবে আক্রান্ত মেয়েটির পরিবারকে কোনো ধরণের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়নি। অন্যদিকে, এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো ধরণের মামলা করা হয়নি বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়ভাবে এ ঘটনার সমাধান হয়েছে। আমি আর মামলা করতে চাই না। পঞ্চায়েতের বিচারে তিনি সন্তুষ্ট কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি নিয়তির উপর ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে নুর ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এই ঘটনা ঘটেছে। ছেলেটিও ছোট। তাই আমরা স্থানীয়ভাবে বিচার হিসেবে ছেলেটির মাথ্যা ন্যাড়া গলায় টিন ঝুলিয়ে এলাকার সমস্ত মানুষের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইয়েছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রতনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।