শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় আগামী বোরো মৌসুমে বেগুনি রঙের ধান চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধানের বীজ সংগ্রহ করতে কৃষকেরা ১ কেজি বীজ ১০০ টাকায় কিনছেন। আগামী মৌসুমে বেগুনি রঙের ধান চাষ উপজেলায় ব্যাপকভাবে বিস্তার ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে বীজ ধান কিনতে কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষক শাহিনুর আলমের সঙ্গে কৃষকেরা যোগাযোগ করছেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পার্সেল করে এই বীজ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও কৃষকদের মাধ্যমে জানা গেছে, নালিতাবাড়ীর সন্তান ব্যাংকার সারোয়ার আলম কুমিল্লায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুবাদে কুমিল্লার আদর্শ সদরের মনাগ্রামের কৃষক মনজুর হোসেনের সঙ্গে পরিচিত হন। সে সুবাদে কৃষক মনজুরের বেগুনি রঙের ধানখেত দেখে সারোয়ার ধানের বীজ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। নিজের এলাকায় বেগুনি রঙের এই ধানের বিস্তার ঘটাতে মনজুরের কাছ থেকে ৫ কেজি ধানের বীজ সংগ্রহ করেন। পরে সেই বীজ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে জমা দেন। কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল আগ্রহ নিয়ে উপজেলার ভেদিকুড়া গ্রামের কৃষক শাহিনুর আলমের ৫ শতাংশ জমিতে চলতি বোরো মৌসুমে এই ধান লাগিয়েছিলেন। শুরুতেই সবুজের মধ্যে ধূসর রঙের ধানখেত দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন খেতটি অযত্নে মরে যাচ্ছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধানগাছের পাতা গাঢ় বেগুনি রং ধারণ করে। সবুজের সমারোহের মাঠে ৫ শতাংশ বেগুনি খেত সবার দৃষ্টি কাড়ে।

৫ শতাংশ জমিতে বেগুনি রঙের ধান শুকিয়ে ১৩ মণ ধান পেয়েছেন কৃষক। হিসাব অনুযায়ী, একরে ধান হয়েছে ৫২ মণ। ১৩ মণ ধানই বীজ হিসেবে কৃষক শাহিনুর সংগ্রহ করেছেন। ইতিমধ্যে ৩ মণ ধান ১০০ টাকা কেজি হিসেবে বাড়িতে বসেই বিক্রি করেছেন।

কৃষক শাহিনুর বলেন, ব্যাংকার সারোয়ার ও কৃষি কর্মকর্তা শরিফের প্রচেষ্টায় তিনিই প্রথম এই উপজেলায় বেগুনি রঙের ধান চাষ করতে পেরেছেন। ৫ শতাংশ জমিতে ধান কাটাই-মাড়াই করে ১৩ মণ ধান পেয়েছেন। সারা বছর কৃষি কাজ করে যা পাননি। কিন্তু ৫ শতাংশ জমিতে বেগুনি রঙের ধান চাষ করে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বীজ নিতে তাঁকে ফোন করেন। এলাকায় বীজ ধানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল বলেন, বেগুনি রঙের ধানের বীজ পেতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গণমাধ্যমে এই ধানের প্রচার পাওয়ায় আগামী মৌসুমে কৃষকেরা এই ধান চাষ করতে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে কৃষক শাহিনুরের কাছ থেকে ৩ মণ বীজ বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিদিন বীজ নিতে অনেকেই ফোন করেন। আশা করছেন, আগামী বোরো মৌসুমে উপজেলায় বেগুনি রঙের ধানের আবাদে বিস্তার ঘটবে।
সূত্র: প্রথম আলো