জমজ মাথা বাচ্চা রাবেয়া ও রোকেয়ার অপারেশন শুক্রবার (০২-৮-২০১৯) সকাল ১০৩০ ঘটিকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় সাফল্যজনকভাবে সম্পন হয়।

সিএমএইচ ঢাকায় ১ আগস্ট ২০১৯ (৩১-৭-২০১৯ দিবাগত রাত ০১০০ ঘটিকায়) মাথা জোড়া লাগানো জমজ বাচ্চাদের পৃথকীকরণের জটিল অপারেশনটি শুরু হয়। এই অপারেশনটি সম্পন্ন করতে ৩৩ ঘন্টা সময় লাগে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহৃদয়তায় পাবনার চাটমোহর এর রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির তিন বছর পনের দিন বয়সের এই দুই বাচ্চা ২০১৭ সাল থেকেই সামগ্রিক সহায়তা পেয়ে আসছিল। হাংগেরি সরকারের মাধ্যমে ‘একশন ফর ডিফে›সলেস পিপল’ নামক সংগঠনও সক্রিয় সহায়তা প্রদান করেছেন। শেখ হাসিনা বার্ণ এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বিষয়টির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইতিপূর্বে প্রাণবন্ত বাচ্চা দুটির দু-স্তরে ‘এন্ডোভাস্কুলার সার্জারী’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ৪৮টি ছোট বড় অপারেশন হাংগেরিতে সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের সবচাইতে জটিল অংশটি ‘জমজ মস্তিষ্ক’ আলাদা করণের কাজটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় সম্পন্ন হয়। এই অস্ত্রোপচারে হাংগেরি বিশেষজ্ঞদের সাথে সিএমএইচ এর নিউরো

এ্যানেসথেসিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে, নিউরো ও প্লাষ্টিক সার্জনগণ সহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ণ ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরো সাই›স ইনস্টিটিউট, সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের প্রায় শতাধিক সার্জন ও এ্যানেসথেসিওলজিস্ট এই জটিল অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন।

এধরণের অস্ত্রোপচার সারা বিশ্বেই বিরল ঘটনা। উপমহাদেশে এরকম অস্ত্রোপচার এটিই প্রথম। এই অপারেশনটি বাংলাদেশে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেল। এধরণের চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও হাংগেরির জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোড়দার হবে।

ঢাকা সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ জানান, এধরণের অপারেশন অত্যন্ত জটিল এবং সাফল্যের হার খুব বেশী নয়। অপারেশনের পর রাবেয়া এবং রোকেয়ার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু এধরণের অস্ত্রোপচারে সর্বদাই অপারেশন পরবর্তী ঝুঁকি এবং জটিলতা অত্যন্ত বেশী। সমগ্র দেশবাসীর কাছে রাবেয়া এবং রোকেয়ার দ্রুত সুস্থ্যতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।