রাজীব আহমেদঃ ভারতের স্বনামধন্য নাট্যসংগঠন ‘অনীক’ আয়োজিত ‘দ্বাবিংশ গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসব’-এ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে শতবর্ষী নাট্যসংগঠন, দিনাজপুর নাট্যসমিতি প্রযোজিত নাটক, “কনক সরোজিনী”।

“বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান” স্লোগানকে সামনে রেখে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ তপন থিয়েটারে আয়োজিত এ উৎসব আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ, ২০২০ইং পর্যন্ত চলবে।

নন্দিত নাট্যজন, মাহমুদুল ইসলাম সেলিম রচিত এবং জনপ্রিয় নাট্য নির্দেশক, নয়ন বার্টেল নির্দেশিত এ নাটকটি ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রফেশনাল থিয়েটার, ক্রাউন থিয়েটারকে উপজিব্য করে সৃষ্ট এক অনন্য দৃশ্যকাব্য।

উনিশ শতকে প্রতিষ্ঠিত ডায়মন্ড জুবিলী থিয়েটার ও ক্রাউন থিয়েটারের টানাপোড়েনের পাশাপাশি নারী নাট্যকর্মীদের অসহায়ত্ব ও সংগ্রাম সুনিপুণভাবে চিত্রায়ন করা হয়েছে নাটকটিতে। সেইসাথে তৎকালীন পেশাদারী থিয়েটার চর্চার প্রতিবন্ধকতাগুলোরও কিছু স্পষ্ট ছবি দেখা যায় নাটকে।

নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র রাখাল চন্দ্র বসাক কলকাতা থেকে নিজের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য নৃত্যপটিয়সী বাঈজি কনক সরোজিনীকে মাত্র দশ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে কৌশলে ঢাকায় নিয়ে আসে। নিজের অজান্তে বিক্রি হওয়া এই কনক সরোজিনীই পরবর্তিতে হয়ে ওঠেন ঢাকার বিখ্যাত নাট্যাভিনেত্রী, যাকে ঘিরেই পুরো নাটকের গল্প এগিয়ে যায়।

নাটকের আরেকটি উজ্জলতর চরিত্র নাট্যকার অর্ধেন্দু শেখর মুস্তফি। যাকে ভালোবেসেই প্রতারিত হয় কনক সরোজিনী। বিক্রি হয় রাখাল বসাকের কাছে। যেখানে তাকে রক্ষিতার মত জীবন যাপন করতে হয়। নাটকের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে সরলা দেবী, ইন্দু রানী, বিন্দু, গোলাম মওলা, কিশোরীলাল, কাদের সরদার, তোতা মিয়া, রাজকুমার দত্ত ও দ্বারকানাথ চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, নাটকটি তপন থিয়েটারের পাশাপাশি আগামী ২ মার্চ, ২০২০ ইং তারিখে চন্দননগর, হুগলির রবীন্দ্র ভবন মঞ্চে এবং ৪ মার্চ,২০২০ইং তারিখে রায়গঞ্জের ছন্দম থিয়েটারেও মঞ্চায়িত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নাটকটির দলনেতা ও নাট্যসমিতির সাধারন সম্পাদক, রেজাউর রহমান রেজু।