জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের ৬৪ জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মাদারীপুর, নেত্রকোণা, শরীয়তপুর, জামালপুর, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কক্সবাজার, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার প্রামানিক, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা, মো. মাগফুর রহমান ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল কর্তৃক মহাখালী, গুলশান ও খিলগাঁও এলাকায় বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বাজার তদারকিকালে পণ্যের মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ‘মশিউরের সবজি দোকান’, ‘শফিকুল ইসলামের সবজি দোকান’ কে ১ হাজার টাকা করে ২ হাজার টাকা, পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকার অপরাধে ‘নাদিম স্টোর’, ‘সাদিয়া স্টোর’ কে ১ হাজার টাকা করে ২ হাজার টাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রির অপরাধে ‘ইউনাইটেড ফার্মা’, ‘আল মদিনা সুপার মার্কেট’ কে যথাক্রমে ১০ হাজার টাকা, ২০ হাজার টাকা, ধার্য্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রির অপরাধে ‘ইসলাম ফার্মা’ কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অর্থাৎ গত ১০ মার্চ তারিখে বিভিন্ন অপরাধে সর্বমোট ৫৪,০০০/- (চুয়ান্ন হাজার) টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

এছাড়া দেশব্যাপী ৫৯টি বাজার তদারকি কার্যক্রমের মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি, পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ঔষধ বিক্রয়, খাদ্য পণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা, ভেজাল পণ্য বা ঔষধ বিক্রয়, বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রের কারচুপি, ধার্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয়, সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যকলাপ, ওজনে কারচুপি, সেবা প্রদানে অবহেলা ইত্যাদি দ্বারা সেবাগ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য, জীবনহানি ইত্যাদি ঘটানো এবং পণ্যের মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ১১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

অন্যদিকে লিখিত অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ধার্য্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রির অপরাধে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় এবং ২ জন অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫% হিসেবে ১ হাজার ৭৫০ টাকা প্রদান করা হয়।

১০ মার্চ সর্বমোট ৬৪টি বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা ও ২টি লিখিত অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন, সিভিল সার্জন, মৎস্য কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বাজার কর্মকর্তা, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধি এবং ক্যাবের সদস্যগণ এসব তদারকি কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করেন। তদারকিকালে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনগণের মাঝে লিফলেট ও প্যাম্পফ্লেট বিতরণ করা হয়েছে।