ইউনিয়ন পরিষদের একজন চেয়ারম্যানের বেতন মাত্র ৮ হাজার টাকা। ৫ বছরে তার বেতন ৫ লাখ টাকাও হয়না অথচ
নির্বাচনে মিনিমাম ১০ লাখ অার সর্বোচ্চ ১ কোটিও খরচ হয়। যা বেতন তা দিয়ে খরচের টাকার ১০ ভাগও ওঠেনা। তাইলে তারা কি করবে? এজন্যই জনগণের বয়স্ক ভাতার টাকা, বিধবা ভাতার টাকা, যত্ন প্রকল্পের টাকা, টিঅার-কাবিখার টাকা যা পায় মেরে খেয়ে যা খরচ করছে তার ১০ গুন উঠায় এবং সেখান থেকে কিছু টাকা পরের নির্বাচনের ইনভেস্টের জন্য রাখে যাতে অাবার চেয়ারম্যান হয়ে পরের টার্মে অারও ১০ গুন টাকা ধান্দা করা যায়। এভাবেই চলছে এই জায়গাটা। এখন প্রশ্ন অাসতে পারে বেতন বাড়াইলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? না একদম হবেনা। তাদের বেতন ৫০ হাজার করলেও খরচের টাকা ওঠানো অসম্ভব।

এটা থেকে বের হওয়ার জন্য দুটি উপায়। প্রথমত, প্রকৃত অর্থেই যারা জনগণের সেবা করতে চায় তাদের নির্বাচিত করা।

দ্বিতীয়ত, ভোটের সময় ভালো প্রার্থীদের চাপে ফেলে নানান সিস্টেমে ব্লাকমেইল করে অামরা জনগণ যে টাকা নেই সেটা বন্ধ করা।

একজন এমপির বেতন মাত্র ৫৫ হাজার, উপজেলা চেয়ারম্যানের বেতন মাত্র ৪০ হাজার, ভাইস-চেয়ারম্যানের ২৭ হাজার অার মেম্বারের বেতনের ব্যাপারে ধারণা করে নেন। অার ইলেকশনের খরচটা একটু হিসাব করে দেখেন?

এসব থেকে বেরিয়ে ভালো জনপ্রতিনিধি পেতে যা করা যায় তা হলো:–

১. জনপ্রতিনিধি হবার জন্য কমপক্ষে এইচএসসি পাস হতে হবে। তবে উচ্চ শিক্ষিত হলে অগ্রগণ্য হবে।
২. বয়স ২৫-৩৫ এর মধ্যে হলে ভালো হয়।
৩. অার্থিক স্বচ্ছল হতে হবে।
৪. নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ভালোবাসা থাকতেই পারে কিন্তু অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শীদের প্রতি অবজ্ঞা করলে চলবেনা।
৫. প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবার পুর্বে বিভিন্ন দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে প্রত্যক্ষভাবে ছিলো এমন নজির থাকতে হবে।
৬. নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায় এমন প্রার্থীকে বর্জন করতে হবে এবং যেসব ভোটার টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করে তাদেরকে সমাজ থেকে একঘর করতে হবে।

এই বিষয়গুলো খেয়াল করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করলে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

পুনশ্চঃ জনপ্রতিনিধি কোনো বেতনের নিমিত্তে চাকুরী না। এটা সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত, এখানে অভাবী(চাউল চোরদের) আসার দরকার নাই।

লেখক: নাজমুল হুদা সুমন
সম্পাদক,সোসাইটিনিউজ