কুড়িগ্রামে ইপিজেড নির্মাণের দাবিতে অান্দোলন করছে তরুণরা। প্রাথমিকভাবে অনলাইনে ব্যাপক জনমত তৈরির লক্ষ্যে দাবির পক্ষে সরব ভূমিকা পালন করছে দারিদ্র্যমুক্ত কুড়িগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি।

এখন প্রশ্নটা হলো ৭১% দারিদ্র্যের জেলা কুড়িগ্রাম কতোটা প্রস্তুত ইপিজেড নির্মাণের জন্য? সেই বিষয়টি নিয়েই একটু অালোকপাত করতে চাই।

প্রথম ব্যাপারটা হলো অনেকেই বলছেন গ্যাস অাসলে কলকারখানা সবি হবে তাই অাগে গ্যাসের দাবি তোলা উচিত। অবশ্যই এটা ভালো সাজেশন কিন্তু গ্যাস ছাড়াওতো ইপিজেড এই রংপুর বিভাগেই অাছে। পাশের জেলা নীলফামারীর ইপিজেড গ্যাস ছাড়াই চলছে তাইলে কুড়িগ্রামে হইতে সমস্যা কোথায়? অার যদি ইপিজেডের দাবি অামরা অাদায় করতে পারি গ্যাস এমনিতেই অাসবে কারণ রংপুর পর্যন্ত গ্যাস অাসার কাজ চলছে। অাপনাকে যদি ইপিজেড দিতে সরকার সম্মত হয় তাহলে তা বাস্তবায়নে গ্যাস,বিদ্যূৎ যা যা লাগবে তার ব্যবস্থাও তারা করবে।

এবার অাসি ইপিজেড হওয়ার জন্য কুড়িগ্রাম কতোটা প্রস্তুত সেই বিষয়টি নিয়ে।

একটা বড় অাশার কথা হলো কুড়িগ্রামের সাথে ভারতের সেভেন সিস্টার অর্থাৎ সাতটা রাজ্যে ঢোকার প্রবেশ পথ তাই এটা ব্যবসার অান্তর্জাতিক রুট।

তাছাড়া অান্তর্জাতিক অার ডমেস্টিক সকল ধরনের বায়ার অাসা-যাওয়ার জন্য কুড়িগ্রামের পাশেই লালমনিরহাট বিমানবন্দর অাছে তাই বায়ারদের অাসা-যাওয়ার কোনো সমস্যা নাই।

কুড়িগ্রামের সবচেয়ে বড় অসুবিধা যেমন ৪৫০ টা চর ঠিক তেমনি ইপিজেড করতে গেলে যে পরিমাণ জমি লাগবে তার চেয়ে শতগুণ জমি এই চরে পাওয়া যাবে।

এবার অাসি পন্য উৎপাদনের পর রপ্তানি ব্যবস্থায়। অাপনারা জেনে খুশি হবেন কুড়িগ্রাম থেকে নৌপথেই চট্রগ্রাম বন্দর যাওয়া যায়, এমনকি কক্সবাজারও যাওয়া যায় তাই জলপথে পন্য রপ্তানি করা সম্ভব এবং ইজি।

তাছাড়া চিলমারী থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ হাইওয়ে রোড প্রায় কমপ্লিট তাই কুড়িগ্রাম টু ঢাকার রাস্তা প্রায় ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে ফলে স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা অারও ভালো হলো।

সবকিছু বিবেচনা করলে কুড়িগ্রামে একটা ইপিজেড করার সুযোগ শতভাগ অাছে।

সর্বোপরি কথা হলো, করোনার ভেতর ইপিজেড হবেনা এমনকি দাবি অাদায় হলেও সব কাজ শেষ হইতে ৫ বছরতো লাগবেই। কাজেই এখন থেকেই দাবিটা জোরালোই হওয়া উচিত। মহামারী অাসবে যাবে। অামরাও ৫ বছর বেঁচে থাকবো তার গ্যারান্টি নাই কিন্তু অামাদের দাবি বেঁচে থাকবে এবং বাস্তবায়নও হবে ইনশাআল্লাহ।।।।

৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হলে ২ লাখ মানুষ চলতে পারবে যা দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। তাই দারিদ্র্যমুক্ত কুড়িগ্রাম গড়তে এটাই অামাদের প্রধান দাবি। অার এই দাবি পূরণে দলমত ভুলে একসাথে চলার বিকল্প নাই।

নাজমুল হুদা সুমন
সংগঠক
দারিদ্র্যমুক্ত কুড়িগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি
সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়