একজন ডিসি, ইউএনও বা কোনো একটা দপ্তরের অফিসার চাইলেই কি সব কাজ একা করতে পারেন? নাহ, পারেননা।

স্থানীয় সরকার এবং প্রশাসন যৌথ উদ্যোগেই মাঠ পর্যায়ে সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেন।

কোনো একটা কাজ একজন সরকারি অফিসার একা করতে পারেননা কারণ পদাধিকার বলে সংশ্লিষ্ট অাসনের এমপি, উপজেলার চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার কোনো না কোনো কমিটির সভাপতি অথবা সদস্য।
তাই ডিসি সাহেব কিংবা ইউএনও সাহেব চাইলেই নিজের মতো করে একটা ভালো কাজ বা অন্যায় কাজ একা করতে পারেননা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছাড়া।

ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই—- বয়ষ্ক, বিধবা অথবা প্রতিবন্ধী ভাতার কাজ করে উপজেলা সমাজসেবা অফিস। এখন সমাজসেবা অফিসার চাইলেই একা সব করতে পারেননা, কারণ পদাধিকার বলেই প্রতিটা ইউনিয়নের ভাতা যাচাই কমিটির প্রধান ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অার ওয়ার্ড মেম্বাররা সেই কমিটির সদস্য।

যেকারণে একজন অফিসার সততার সাথে সবকিছু করতে গেলেও অাটকে যান চেয়ারম্যানের সিগন্যাচারের কাছে। কারণ তার সাইন ছাড়া ভাতার কাগজ পাশ করার বিধান নাই। এখন চেয়ারম্যান বা মেম্বাররাতো অার ফাওফাও সাইন করার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে ওই চেয়ারে বসেননাই। তাই সাইনটা নিতে গেলেই মাইনেটা অাগে দেওয়া লাগে। এইখানেই ঝামেলা। ঝামেলার নাম হইলো “সমন্বয়”।

এই সমন্বয় জিনিসটা যেমন ভালো তেমনি খারাপ। যদি এমন হয় সরকারি অফিসার এবং চেয়ারম্যান দুজনই ভালো মানুষ তাইলে সমন্বয়টা দ্রুত হয় অার কাজটাও দ্রুত হয়ে যায়। কিন্তু ওই অফিসার অথবা চেয়ারম্যান দুজনের একজনও যদি বাটপার হয় তাইলেই ভেজাল। একজন হয়তো কাজটা ফ্রি করলো কিন্তু অারেকজনের কাছে ধরা খাওয়াই লাগবে।

ভাতার কার্ড যেহেতু সীমিত তাই এখানে একটা ইনভিজিবল দর কষাকষি চলে। টেন্ডার পাইতে যেমন ডাক হয় সেরকম। যে গরিব যত বেশি ডাক উঠাইতে পারবে তার ভাতাটা তত দ্রুত হয়।

এভাবেই চলছে সিস্টেমটা। একটা অদৃশ্য সিন্ডিকেট সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। গরিবের হক মারার সিন্ডিকেট।
এরা ৫ বছর জনগণকে শোষণ করে কোটি টাকা ইনকাম করবে এরপর ইলেকশন অাসলে ভোটারদের হাত-পা ধরে তাদেরি টাকার কিছু অংশ খরচ করে ভোট নিয়ে অাবারো চেয়ারম্যান-মেম্বার হবে।

অনেক সময় অাবার জনপ্রতিনিধি সৎ হইলেও অামলারা অসৎ হওয়ায় এরকম হয়।

এভাবে অার কতোদিন চলবে কে জানে। মুক্তি মিলবে কি অাদৌ?

লেখক:
নাজমুল হুদা সুমন
সমন্বয়ক, দারিদ্রমুক্ত কুড়িগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি
সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়