কৃষকদের জন্য প্রণোদনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করে ফেনীতে আখ চাষের পরিধি বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনী।

ফেনী কার্যালয়ে দায়িত্বরত উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী জানান, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সুগার ক্রপ ইন্সটিটিউটের সহায়তায় আখ চাষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও সরকারি আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে কথা চলছে।

উপপরিচালক জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ৪টি উপজেলায় ৭৩ হেক্টর জমিতে আখ কাটা হচ্ছে। তন্মধ্যে সোনাগাজী উপজেলায় সর্বাধিক ৩১ হেক্টর আখ চাষ হয়েছে। চলমান মৌসুমে ৪৮ দশমিক ২৩ টন আখের ফলন হয়েছে। তবে সদর ও দাগনভূঞা উপজেলায় কোন আখ আবাদ হয়নি বলেও সূত্র জানায়।

উপপরিচালক জানান, কৃষি বিভাগে সহযোগিতায় আসন্ন আবাদকালে দাগনভূঞা ছাড়া অন্য ৫টি উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের কথা রয়েছে। জেলায় বর্তমানে প্রায় এক হাজার চাষী আখ চাষে জড়িত রয়েছে।

জেলার সর্বাধিক আখ চাষ অঞ্চল সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, আখ চাষের উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় এখানে চাষীরা সফল হচ্ছে। বর্তমানে তিন শতাধিক চাষী আবাদ করলেও দিন দিন এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোনাগাজী উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ নাথ বলেন, উপজেলায় ২ জাতের আখ চাষ হচ্ছে। এখানের আখ চাষীরা আখের পাশাপাশি চারা রোপণের মুহূর্তে বিভিন্ন শীতকালীন সবজিও আবাদ করেন। এতে একই জমি হতে তাদের বাড়তি একটি আয় হয়। ফলে জমিতে আখ চাষে দীর্ঘ সময়ের বিষয়টি পুষিয়ে নিতে পারেন।

পরশুরামে চাষীদের তথ্যমতে, সঠিক পরিকল্পনা ও আর্থিক সংকটে আখ প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যর্থ হচ্ছে তারা। নানাবিধ সমস্যার মুখে চাষীদের একটি অংশ এ সম্ভাবনাময় খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

সদর উপজেলায় আখ চাষের স্বল্পতার বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, গতবার কোন চাষী না থাকলেও এ মৌসুমে উপজেলার ৩ জন চাষী আখ আবাদ করছে। কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করলেও আখ চাষের উপযুক্ত জমি না থাকায় এবং সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এতে চাষীরা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

অপ্রতুল আখ চাষ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রাফিউল আলম বলেন, আখ চাষের উপযুক্ত জমি এবং সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় এখানে চাষীরা আগ্রহ দেখায় না।

জেলার উৎপাদিত আখ বাজারজাতকরণ বিষয়ে একাধিক চাষী জানান, ফেনীতে উৎপাদিত আখ স্ব স্ব উপজেলায় স্থানীয় বাজারে খুচরা মূল্যে বিক্রি করা হয়।

আখের রস বিক্রেতা সবুজ জানান, ফেনীতে যেসব আখ আসে তা চট্টগ্রাম বা খাগড়াছড়ি থেকে আনা হয়। এতে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ী মধ্যস্থতা করেন।

তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বর্তমানে ধানের পাশাপাশি আখ আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, আখ চাষে জেলায় নির্দিষ্ট কোন প্রকল্প নেই। তবে এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা চলছে।

উপ-পরিচালক আরো বলেন, কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে একদিকে যেমন আখের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে কৃষক আর্থিক লাভবানও হবে।