চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজিকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল লাইপজিগ। সেই সঙ্গে গত আসরের হারের মুধুর প্রতিশোধও নিল জার্মানির দলটি। তবে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।

বুধবার রাতে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে লাইপজিগ। গত আসরের সেমিফাইনালে  ৩-০ গোলে পিএসজির বিপক্ষে হেরেছিল দলটি। এ দিন নেইমার-এমবাপের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে টমাস টুখেলের দলটি।

চোটের জন্য নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপের অনুপস্থিতিতে প্রথমার্ধে পিএসজির আক্রমণে ছিল না চিরচেনা গতি। যদিও ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যায় তারাই। মোইজে কিনের বাড়ানো বল নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে দেয় ডি মারিয়া।

দুই মিনিট পর আমাদু হায়দারা পারেননি সতীর্থের ক্রস লক্ষ্যে রাখতে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ দুই ম্যাচ হেরে আসা লাইপজিগও পারেনি সমতায় ফিরতে।

ম্যাচের ১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণের সুর্বণ সুযোগ নষ্ট করে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নরা। কিনের একটি শট গিয়ে লাগে দায়োত উপামেকানোর হাতে। পেনাল্টি পেয়ে যায় পিএসজিও। কিন্তু ডি মারিয়া তখন ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ব্যর্থ হন। আর্জেন্টাইনের আনাড়ি কিক ঠেকিয়ে দেন পিটার গুলাশি।

তবে ৩৮তম মিনিটে সতীর্থ থ্রু বল ধরে মাঝ মাঠ থেকে এক ছুটে এসে ডি মারিয়া জালে বল জড়িয়ে দেন। কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সময়ে অফসাইডে ছিলেন তিনি।

লাইপজিগ ম্যাচে ফেরে ৪১ মিনিটে। সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড ক্রিস্টোফার এনকনকু বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করে দলকে ফিরিয়ে আনেন ম্যাচে। বিরতির আগে ওই গোলে প্রেরণা খুঁজে পায় লাইপজিগও।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দারুণ খেলছিল তারা। এমিল ফর্সবার্গ দারুণ এক আক্রমণ সাজিয়ে ভীতি চড়িয়ে দিয়েছিলেন পিএসজির রক্ষণে। কিন্তু সব ঠিকঠাক করেও তখন তিনি বল মেরেছেন ওপর দিয়ে।

তবে ম্যাচের নবম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে পিএসজি। বলের লাইনে ঝাঁপিয়েও এমিল ফোর্সবার্গের স্পট কিক থামাতে পারেননি নাভাস। ডি-বক্সে প্রেসনেল কিম্পেম্বের হ্যান্ডবল ভিএআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। পরে ফোর্সবার্গই পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন।

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় পিএসজি। ইদ্রিসা গায়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। পিছিয়ে পড়া দলটি বাকিটা সময়ে আর ফিরে পায়নি হারানো ছন্দ।

৮১তম মিনিটে এনকুনকু পরের মিনিট মার্সেলো সাবিৎজারের শট পারেনি ব্যবধান বাড়াতে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ডি মারিয়ার ফ্রি কিক সরাসরি গোলরক্ষকের গ্লাভসে জমে গেলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।

এ নিয়ে দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পেল পিএসজি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ২-১ গোলে হেরে আসর শুরু করা টমাস টুখেলের দল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইস্তানবুল বাসাকসেহিরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল।

এ দিনের অন্য ম্যাচে বাসাকসেহিরের মাঠে ২-১ গোলে হেরে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে শীর্ষে তারাই। সমান পয়েন্ট নিয়ে লাইপজিগ দ্বিতীয় স্থানে আছে। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে পিএসজি তৃতীয় ও তুরস্কের দল বাসাকসেহির চতুর্থ স্থানে রয়েছে।