শীতের আগমনী বার্তা রবি মৌসুম শুরুর জানান দিচ্ছে। এরই মধ্যে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলায় শীতকালীন সবজির চাষ শুরু করেছেন চাষিরা। প্রতি বছর আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে তুলে বিক্রিকরে ভালো দাম পেয়ে থাকেন চাষিরা। তাই আগাম সবজি আবাদে আগ্রহী তারা। জেলার ১৭ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় শীতকালীন সবজি চাষ লাভবান হওয়ায় কৃষকেরা এদিকেই ঝুঁকে পড়েছেন বলে জানান এলাকার চাষিরা।

শীতের শুরুতেই বাজারে বিক্রি করে বেশি টাকা আয়ের আশায় চাষিরা এখন জমিতে শীতকালীন শাকসবজির চারা বপন ও পরিচর্যার কাজ করছেন। এবছর কার্ত্তিক মাসে বৃষ্টি হলেও সবজি চাষের জন্য কুমিল্লা অঞ্চলের আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। যে কারণে ক্ষেতের শাক-সবজির ক্ষতি হয়নি। আবার বীজতলাও নষ্ট হয়নি। যার ফলে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ জুড়ে শীতের সবজি চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণাকরা হচ্ছে। এবারে কুমিল্লার কৃষি প্রধান গ্রামগুলোতে শীতের সবজির বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক সবজির চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কৃষি অফিস আরও ২ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের ব্যাপারে কাজ করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লার মাঠে শীতকালীন সবজি আবাদে ব্যস্ত চাষিরা। শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি আবাদ করছেন। আগাম আবাদের শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, লাউ, কচুরমুখী, পেপে, ধনেপাতা, বরবটি ও টমেটোসহ রকমারি সবজি চারিদিকে। নিম্নচাপের পর এখন শীতকালীন সবজি আবাদে মাঠে ব্যস্ত সময় পাড় করতে দেখা গেছে। ফসলি জমিতে আগাম জাতের সবজি চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। আর উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। বুড়িচং উপজেলার ডুবাইরচর এলাকার সবজি চাষি আমির হোসেন জানান, আগাম সবজির খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টি হলেও মাটির উচু বিছানায় সবজির আবাদ করায় সবজি ক্ষেতের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। সূত্র জানায়, দেশের মোট সবজি চাহিদার একটা অংশ কুমিল্লার অঞ্চল থেকে যোগান হয়। এ অঞ্চলে শুধু মাঠে নয়, চাষিদের ঘরের আঙিনায় ও বহু চাষির উঠান জুড়ে বাণিজ্যিকভাবে সবজি আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক সুরজিদ দত্ত বলেন, এবার বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় শীতকালীন শাকসবজিসহ সব রকমের ফসলের ভালো ফলন হচ্ছে। প্রান্তিক চাষিদের মাঝে শীতের শাকসবজির মানসম্পন্ন বীজ এবং সার দেয়া হয়েছে। আশা করি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ এবং উৎপাদন হবে। তিনি আরো বলেন, এখন মাছ, গোশতের চেয়ে সবজির চাহিদা বেশি। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে শীতকালীন শাকসবজি চাষ করছে। প্রতিবছরই আবাদের জমি বাড়ছে। কুমিল্লার সবজি এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।