ফেনী জেলার কৃষকরা এখন বোরো ধান আবাদের দিকে ঝুঁকছে। বোরোধান বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়ার ফলে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে কৃষকদের। কৃষিবিদরা বলছেন, কৃষকের আগ্রহ আরো বাড়ানো গেলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশী বাড়ানো সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কান্তি সেন জানান, চলতি মৌসুমে ফেনীতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ৭৫ হেক্টর জমি। গত বছর আবাদকৃত জমির পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার ২১০ হেক্টর। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমি।

বোরো আবাদে কৃষকদের অনাগ্রহ প্রসঙ্গে শহরের বারাহীপুর এলাকার কৃষক মো. জাফর ইমাম শিপন জানান বীজ, সার, সেচ ও মজুরি খরচ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক আবাদ করতে চায় না।

সোনাগাজীর চর চান্দিয়ার কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, এবার আমন ধানে ভাল লাভ হয়েছে তাই বোরো ধানের বীজতলা করেছি। তিনি জানান, ১ দশমিক ৮ একর জমিতে বোরো আবাদ করছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথ কার্যকর করলে বোরো আবাদে কৃষকদের উৎসাহ বাড়বে বলে জানান তিনি।

বোরো মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের বীজ সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে বলে জানান, উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বোরো আবাদে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে হাইব্রিড ধান বীজ, সার ও নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। জেলায় বাছাইকৃত এক হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ২ কেজি হাইব্রিড ধানবীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া আরও দশ হাজার কৃষককে সরকারের পক্ষ হতে ২০ টন ধান বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, অনেক কৃষক ইচ্ছে করেই জমি পতিত রাখেন বা অন্য কোন ফসল আবাদ করেন। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা নিয়মিত কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকরা আগ্রহী হলে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, সদর উপজেলার ৯ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের কথা রয়েছে। অনেক কৃষক ঝামেলা মনে করে বোরো আবাদ না করে শীতকালীন সবজি বা তেলবীজ জাতীয় শস্য আবাদ করেন। তবে এবছর উপজেলার ৩ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বোরো আবাদে কৃষকের আগ্রহও পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা আশাবাদী বিগত যে কোন বছরের তুলনায় এবার বোরো আবাদ ভালো হবে।